নিউইয়র্কে বাংলাদেশি নারী উদ্যোক্তাদের সম্মাননা দিলো ইউএসবিসিসিআই

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি নারী উদ্যোক্তাদের সম্মাননা দিলো ইউএসবিসিসিআই

 

প্রবাস ডেস্ক, নিউইয়র্ক :

বিশ্ব নারী উদ্যোক্তা দিবস ২০২৩ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রবাসী নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে ইউএস-বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (ইউএসবিসিসিআই)।

নারীদের অগ্রগতি ও উন্নতিতে কাজ করে যাচ্ছে ইউএসবিসিসিআই।  তারই ধারাবাহিকতায় এ বছরও নারী উদ্যোক্তা দিবস বা উইম্যান এন্টারপ্রেনিউরশিপ ডে উপলক্ষে নারীর ক্ষমতায়নের প্রতি সমর্থন জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে রবিবার (১৯ নভেম্বর) নিউইয়র্ক সিটির স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক লাগার্ডিয়া বিমানবন্দর ম্যারিয়টে নারী উদ্যোক্তা সামিট এবং নারী উদ্যোক্তা পুরস্কার ২০২৩ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন আয়োজক সংস্থাটির পরিচালক শেখ ফরহাদ।  সহযোগীতা করেন, রুমা আহমেদ, চেয়ারপারসন ইউএসবিসিসিআই উমেন স্ট্যান্ডিং কমিটি।  


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নিউইয়র্ক স্টেটের অ্যাসেম্বলি সদস্য মিসেস জেনিফার রাজকুমার, স্টেট এ্যাসেম্বলীম্যান স্টিভেন রাগা, মোহাম্মাদ মেহেদি হাসান, ইকনোমিক মিনিষ্টার, বাংলাদেশ দূতাবাস ওয়াশিংটন ডিসি।  এস এম নাজমুল হাসান, ডেপুটি কনসাল জেনারেল, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনস্যুলেট প্রমূখ অতিথিবৃন্দরা।

ইউএসবিসিসিআই-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ লিটন আহমেদের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়।  লিটন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সেতু বন্ধন রচনা করা ও পিছিয়ে পরা বাংলাদেশী নারী সমাজকে ব্যবসায়িক নেতৃত্বে এগিয়ে নিতে ইউএসবিসিসিআই নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে প্রতি বছর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


তিনি বলেন, এই শীর্ষ সম্মেলনটি একটি গতিশীল প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করে যা, নতুন প্রতিভা, সফল উদ্যোক্তা এবং শিল্পের অভিজ্ঞদের একত্রিত করে। এর লক্ষ্য ইন্টারেক্টিভ প্রশিক্ষণ এবং মূল্যবান তথ্য প্রদান করা, ব্যক্তিদের তাদের কর্মজীবন এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করা। অংশগ্রহণকারীদের সহকর্মী পেশাদারদের সাথে সংযোগ করার অনন্য সুযোগ রয়েছে, তাদের পেশাদার বৃদ্ধির সাথে প্রাসঙ্গিক আলোচনায় জড়িত। এই অর্ধ-দিনের শীর্ষ সম্মেলনটি ব্যক্তিদের পরামর্শদাতা, বন্ধু, ক্লায়েন্ট বা কর্মচারীদের খুঁজে পেতে একটি সম্পর্ক হিসাবে কাজ করে।

তিনি নারী উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, 'নারী উদ্যোক্তাদের জন্য, আমার বার্তাটি সহজ: তুমি এটা করতে পারবে।  নিজের ওপর এবং আপনার ব্যবসার ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে।  মহিলাদের উত্সাহিত করার জন্য আত্মবিশ্বাস তৈরি করা এবং ব্যবসায়িক দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন।  এখানে উল্লেখ্য, এসএমই খাতের একটা বড় অংশ নারী উদ্যোক্তা। নারী উদ্যোক্তা তৈরি ও তাদের সহায়তায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে ইউএসবিসিসিআই। নারী উদ্যোক্তাদের কেন্দ্র করে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করি।


নানা প্রতিকূলতা সত্বেও বহুজাতিক এ সমাজে উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী হিসেবে খ্যাতি অর্জনকারিগণের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন এস জে ইনোভেশনের কো-ফাউন্ডার সাহেরা চৌধুরী, তানজিয়া চৌধুরী, সহকারি প্রধান, ব্রঙ্কস ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি একাডেমি, মিসেস জুন্নাতুল রুমা, অ্যাটর্নি অ্যাট ল, রুমা জুন্নাতুল পিএলএলসি, ডাঃ সায়েরা হক, এমডি (ইন্টারনিস্ট, হক মেডিকেল অফিস, পিসি), রিতা চৌধুরী, সিনিয়র ফ্যাডারেল ম্যানেজার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ, মিলি ভূঁইয়া, প্রেসিডেন্ট, ফ্রেন্সচাইস ডমিনোস পিৎজা, প্রিসিলা নিউইয়র্ক ইনক’র প্রতিষ্ঠাতা ফাতেমা নাজনীন প্রিসিলা প্রমূখ।  

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন বলেন, আগামীতে বাংলাদেশী আমেরিকান নারী উদ্যোক্তাগণ আরো বেশী পরিমানে অর্থনৈতিক নেতৃত্বে আসবে এবং বাংলাদেশ ও আমেরিকা উভয় অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।

নারী উদ্যোক্তা পুরস্কার ২০২৩, যারা ব্যবসায়িক ল্যান্ডস্কেপে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এমন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী উদ্যোক্তাকে চলতি বছর পুরস্কার প্রদান করা হয়।


পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন : মিসেস ইভানা আক্তার (বিউটি বাই ইভানা), মিসেস রোজা আহমেদ, প্রতিষ্ঠাতা, রোজার ব্রাইডাল মেকওভারের, মিসেস ডাঃ ফাতেমা রহমান, চেয়ারম্যান, বেঙ্গা ফ্যাশন লিমিটেড, মিসেস তাসনিমা মান্নান সুনিয়া, পরিচালক, সানম্যান গ্লোবাল এক্সপ্রেস কর্পোরেশন, মিসেস নাজমুন নুর এশা, সিইও, জাট ইউনাইটেড কর্পোরেশন, মিসেস ত্রিনিয়া হাসান (ব্যক্তিগত সঙ্গীত শিল্পী), মিসেস শামীমা হক সিইও, ফয়রোজ ক্যাফে অ্যান্ড লাউঞ্জ, মিসেস তাসমিয়া এ. চৌধুরী (লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিয়েল এস্টেট এজেন্ট, মেগা হোমস রিয়েলটি ইনকর্পোরেটেড), মিসেস সানজানা আহমেদ, প্রেসিডেন্ট, বাফেলো টি চ্যাট ইনক, ডাঃ সায়েরা হক, এমডি (ইন্টারনিস্ট, হক মেডিকেল অফিস, পিসি), মিসেস জুন্নাতুল রুমা, এসক (জুরিস ডক্টর অ্যান্ড অ্যাটর্নি অ্যাট ল, রুমা জুন্নাতুল পিএলএলসির আইন অফিস), মিসেস সাদিয়া আফরিন (প্রেসিডেন্ট এবং সিইও, ইরা কনসালটিং সার্ভিসেস ইউএসএ এলএলসি), মিসেস সুলতানা রহমান (এনওয়াইএস লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিয়েলটর, প্রস্থান রিয়েলটি প্রাইম), নূরা মেহেদী, চীফ এডিটর, দ্যা চার্জ।

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র সাউথ এশিয়ান কমিউনিটি লিয়াজোন ফর কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের পরিচালক বক্তব্য রাখেন, প্যাট্রিসিয়া রঘুনন্দন।  তিনি বলেন, মাইনোরিটি এবং উইমেন উদ্যোক্তাগণের জন্যে সিটি অফিসে অনেক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। বিপুল বরাদ্দও রয়েছে। তার সদ্ব্যবহার করতে আজকের এ অনুষ্ঠানের গুরুত্ব অপরিসীম।


ইউএসবিসিসিআই উইমেনস এন্টারপ্রেনিউর সামিট এবং অ্যাওয়ার্ডস ২০২৩-এর একটি সুস্পষ্ট মিশন ছিল- নারী উদ্যোক্তাদের আরো ভালো করতে এবং তাদের প্রচেষ্টায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে অনুপ্রাণিত করা। এই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল অ্যাডভোকেসি, ব্যবসায়িক উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক সচেতনতা, নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট এবং সদস্যদের সরাসরি পরিষেবা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উদ্দীপিত করা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার মান উন্নত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও আমেরিকান ব্যবসার মধ্যে নেতৃত্ব প্রদান এবং সম্পর্ক জোরদার করা।

ইভেন্টটি সফলভাবে নারী উদ্যোক্তাদের বৈচিত্র্যময় প্রতিভা এবং উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব প্রদর্শন করে, ক্ষমতায়ন ও সহযোগিতার চেতনাকে উৎসাহিত করে। ইউএসবিসিসিআই ব্যবসায় মহিলাদের সমর্থন ও প্রচার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আগামীতে ইউএসবিসিসিআই উভয় দেশের প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে আরো সচেষ্ঠ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়।

সমাপনী বক্তব্যে এম এস শেকিল চৌধুরী বলেন, প্রবাসী নারী উদ্যোক্তারাও দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করছেন, দেশীয় পণ্যের সমাহার ঘটিয়ে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশকে তুলে ধরছেন প্রবাসী নারীরা। এজন্য তাদেরকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে।

আরো উপস্থিত ছিলেন, লাবলু আনসার, নির্বাহী সম্পাদক : বাংলাদেশ প্রতিদিন, উত্তর আমেরিকা, সাংবাদিক আনিসুর রহমান, আনিকা তাবাসসুম, শ্যামল হক, রফিক খান, সমিউল ইসলাম, ইকবাল আহমেদ, ওয়াসিম আহমেদ, সাঈদা আতিকা, ফজলু খান, নাসরিন রহমান, মলি সোনিয়া, ইসফা আহমেদ, ইসরা আহমেদ, মাহবুবা রহমান, স্নেহা, ইঞ্জিনিয়ার ফজলু হক, লাকি খান, দেলোয়ার খান, বদরুদ্দুজা সাগর, চেয়ারম্যান, ইউএসবিসিসিআই এক্সপো স্ট্যান্ডিং কমিটি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, সংগঠনের সহ সভাপতি রুম্মান বখর্ত বিরতীজ।